স্থানীয়
হিজড়া জনগোষ্ঠীর উদ্যোগে মসজিদ, অর্থাভাবে থমকে আছে নির্মাণকাজ

মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন ছিল তাঁদের। নিজেদের শ্রম ও অর্থে কাজও শুরু করেছিলেন। কিন্তু অর্থের অভাবে এখন থেমে থেমে চলছে নির্মাণকাজ। ময়মনসিংহের চরগোবদিয়ায় হিজড়া জনগোষ্ঠীর উদ্যোগে নির্মাণাধীন এই মসজিদটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে এখন প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা।
নগরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরগোবদিয়ায় সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাস করেন প্রায় ৪০ জন হিজড়া। তাঁদের ধর্মীয় ইবাদতের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশে ২০২৪ সালের মার্চে মসজিদ ও কবরস্থানের জন্য ৩৩ শতাংশ জায়গা নির্ধারণ করা হয়।
এরপর নিজেদের শ্রম ও অর্থ দিয়ে সেখানে টিনশেড মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন তাঁরা। নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও রমজানের আগে মসজিদটি চালু করা হয়। এখন সেখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করছেন হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরা। রমজানে হয়েছে তারাবির নামাজও। নামাজের পাশাপাশি চলছে আরবি ও ধর্মীয় শিক্ষার পাঠ।
তবে মসজিদটির অবকাঠামোগত কাজ এখনো শেষ হয়নি। অর্থের অভাবে নির্মাণকাজ এগোচ্ছে ধীরগতিতে। হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরা বলছেন, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁরা ইতোমধ্যে অনেকটা কাজ করেছেন। কিন্তু বাকি কাজ শেষ করার মতো অর্থ তাঁদের হাতে নেই।
দাওয়াতুল কোরআন হিজরা আবাসনপল্লী জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা জয়িতা তনু বলেন, ‘আমরা স্থানীয় জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনে সাহায্যের আবেদন করেও কোনো সাড়া পাইনি। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী মসজিদের কাজ করেছি। এখন আর্থিক সংকটের কারণে কাজ এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।’
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে মিলেমিশে হিজড়ারা নামাজ আদায় করেন। আমরা তাঁদের আমাদের প্রতিবেশী মনে করি। মসজিদটির কাজ শেষ হলে আরও বেশি মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।’
স্থানীয় বাসিন্দারাও মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ করার পক্ষে। তাঁদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় বসবাস করা হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। মসজিদটি শুধু তাঁদের জন্য নয়, স্থানীয় মুসল্লিরাও এখানে নামাজ আদায় করেন।
মসজিদটির ইমাম আব্দুল্লাহ মুরসালিন বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা ও ইবাদতের অধিকার সবার রয়েছে। হিজড়া জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় আগ্রহকে সহযোগিতা করা উচিত।
মসজিদ নির্মাণে সরকারি সহায়তা চেয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ হিজড়া নেতাদের। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে মসজিদটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরও সহায়তা না পাওয়ায় হতাশ তাঁরা।
তবে এ বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘তৃতীয় লিঙ্গের মসজিদটি সম্পর্কে আমার জানা ছিল না। যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করলে অবশ্যই সহযোগিতা করা হবে।’
মসজিদটির পাশাপাশি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের দাবিও জানিয়েছেন হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরা। তাঁদের মতে, ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা গেলে সমাজের মূলধারায় ফিরতে তাঁদের পথ আরও সহজ হবে।
সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘তৃতীয় লিঙ্গের মসজিদ আমাদের দেশের জন্য একটি দৃষ্টান্ত। সরকারের উচিত দ্রুত মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা।’
ব্রহ্মপুত্রের তীরে নিজেদের উদ্যোগে গড়ে তোলা মসজিদটিতে এখন নামাজ হচ্ছে, ধর্মীয় শিক্ষাও চলছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো দাঁড় করাতে প্রয়োজন অর্থ। হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের আশা, সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে দ্রুতই শেষ হবে তাঁদের দীর্ঘদিনের এই স্বপ্নের মসজিদের নির্মাণকাজ।
ট্যাগ:
নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন
সর্বশেষ সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পান
সম্পর্কিত সংবাদ


স্থানীয়২৫ আগস্ট ২০২৬
ফুলপুর বাসস্ট্যান্ডে অটো চুরি ও জননিরাপত্তায় ওসির নেতৃত্বে আলোচনা
mymensingh1 মিনিট

স্থানীয়২৩ আগস্ট ২০২৬
ময়মনসিংহ ময়মনসিংহে পশু চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণী গ্রেপ্তার
mymensingh2 মিনিট

স্থানীয়২২ আগস্ট ২০২৬
ময়মনসিংহে হালুয়াঘাটে পাচারের সময় উদ্ধার হলো দুটি লজ্জাবতী বানর
mymensingh2 মিনিট
